দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও নেতানিয়াহুবিরোধী জোট জয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যে পদক্ষেপই নিন না কেন, তার পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে বিরোধী জোটের সরকার গঠনের পথও সহজ নয়। এ জন্য জনসাধারণের কাছে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন লাপিদ।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ৬৭টি পেয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। তার দল লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পথ স্পষ্ট নয়।
নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৬৭ হলেও সরকার গঠনে বাধা রয়েছে। ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি দলের মধ্যে তিনটি দল, ইয়াশার, বি ইয়াখাদ ও ইসরায়েল বেইতেনু, আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আমের সঙ্গে জোট সরকার গঠনে না যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, ‘নেতানিয়াহুর বিরোধীরা নির্বাচনে স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক জয় চেয়েছিলেন। এমন জয়, যার পর নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাওয়া যায়। কিন্তু তারা তেমন ফল পাননি। তারপরও কয়েকটি দিক থেকে বিরোধী জোট জয়ী হয়েছে।’
লাপিদের দাবি, নেতানিয়াহু পেয়েছেন ৫৩টি আসন, যা তার জন্য বড় ধস। এর মধ্যে ১৩টি আসন এমন দুটি দলের, যারা নিজেদের জায়নবাদবিরোধী বলে মনে করে। দল দুটি হলো অতি-ধর্মীয় ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস। তারা যথাক্রমে সাত ও ছয়টি আসন পেয়েছে।
লাপিদ বলেন, ‘এই ১৩টি আসন বাদ দিলে নেতানিয়াহুর হাতে থাকে ৪০টি আসন। নেতানিয়াহু যা-ই করুন না কেন, তার সরকার গঠনের কোনো উপায় নেই।’
তিনি বলেন, ‘তাই আমরা জিতেছি। এটি বড় ব্যবধানে জয় নয়, বরং পয়েন্টের ব্যবধানে জয়। তবে পয়েন্টও গণনা করা হয়। জয় তো জয়ই।’
বিদায়ী বিরোধীদলীয় নেতা জানান, ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে তাদের জোট সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে কাজটি কঠিন হবে এবং সফলতা নিশ্চিত নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।
এ কারণে ইসরায়েলিদের কাছে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে লাপিদ বলেন, ‘সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নির্বাচনী প্রচারের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি ছোট ছোট কক্ষে, ধীরে ধীরে এবং সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার আড়ালে সম্পন্ন হয়।’
তিনি বলেন, মানুষ অনিশ্চয়তা পছন্দ করে না, তা তিনি জানেন। তবে শুধু একটি শিরোনাম বা ফাঁস হওয়া খবরের জন্য যদি তারা কৌশলগতভাবে, নীরবে ও নিখুঁতভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে এক মাস পর পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক হতে পারে।
লাপিদ আরও বলেন, বর্তমানে যে নীরবতা দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে কোনো কাজ চলছে কি না, তা জানতে চাইলে উত্তর হলো, হ্যাঁ, কাজ চলছে।
/অ